সোমবার, ৩১ জুলাই, ২০১৭

"সন্ত্রাসীদের মোকাবেলার নামে আমেরিকার জোট গঠন ছিল রাজনৈতিক প্রতারণা"

ভয়েস অফ বাংলাদেশ : সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতিসংঘ মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদের প্রধানের কাছে লেখা চিঠিতে মার্কিন নেতৃত্বে গঠিত বেআইনি সামরিক জোট ভেঙে দেয়ার দাবি জানিয়েছে। আমেরিকা সিরিয়া সরকারের অনুমতি না নিয়ে এবং জাতিসংঘের নীতিমালার বাইরে থেকে দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা চালাচ্ছে।
চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন কথিত আন্তর্জাতিক জোট উগ্র সন্ত্রাসী দায়েশের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে রাকা, হাসাকা, আলেপ্পো ও দেইর আজ-যোর প্রদেশের বেসামরিক লোকজনের ওপর হত্যাযজ্ঞ ‌এবং আবাসিক এলাকাকে টার্গেট করে হামলা চালাচ্ছে। তাই সিরিয়ার জনগণ চায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট ভেঙ্গে দেয়া হোক।
এই জোট দায়েশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানের নামে ২০১৪ সালের জুলাই থেকে দামেস্ক ও জাতিসংঘের অনুমতি ছাড়াই সিরিয়ায় বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তুরস্কের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ সালিম ইয়াশার সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের ভূমিকার ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, "সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে আমেরিকা প্রথম থেকেই সিরিয়া সরকারের অনুমতি না নিয়ে ওই দেশটিতে হামলা চালিয়ে আসছে। কারণ এই জোটের প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে দায়েশসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সহযোগিতা করা।" তুরস্কের এই রাজনৈতিক ভাষ্যকার আরো বলেছেন, "মার্কিন নীতি অত্যন্ত প্রতারণাপূর্ণ এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তারা যে যুদ্ধের কথা বলছে তার ওপর আস্থা রাখা যায় না।"
প্রকৃতপক্ষে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট কখনই সন্ত্রাসীদের ওপর হামলা চালায়নি। তারা কেবলমাত্র মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের অবৈধ লক্ষ্য অর্জনের জন্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করছে। আমেরিকা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কথা বললেও বাস্তবে তারা সিরিয় সেনাদের অবস্থানের ওপর হামলা চালিয়ে সন্ত্রাসীদের সহযোগিতা করছে। এর বড় প্রমাণ হচ্ছে, সিরিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিকে দীর্ঘায়িত করে সন্ত্রাসীদেরকে দিয়ে সেদেশে ধ্বংসযজ্ঞ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে আমেরিকা।
অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, দায়েশ সন্ত্রাসীদের মোকাবেলার নামে আমেরিকার জোট গঠন বড় ধরণের রাজনৈতিক প্রতারণা। মার্কিন খ্যাতনামা রাজনৈতিক বিশ্লেষক পাওয়েল শোল্ডেন ফাত এ ব্যাপারে বলেছেন, দায়েশ বিরোধী মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট সন্ত্রাসবাদ দমনে মোটেই আন্তরিক নয়। কারণ তারাই এসব সন্ত্রাসীদের প্রধান সহযোগী।
যাইহোক, আমেরিকার এ ভণ্ডামি চরিত্রের কারণে আন্তর্জাতিক সমাজ খুবই চিন্তিত। ইরাক ও সিরিয়ায় নিরাপত্তাহীনতা, অবকাঠামো ধ্বংস, মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সন্ত্রাসবাদের ভয়াবহ বিস্তার এসবই এ অঞ্চলে মার্কিন হস্তক্ষেপ ও ষড়যন্ত্রেরই ফসল। জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়াই সিরিয়ায় মার্কিন আগ্রাসন বিশ্বে খারাপ নজির স্থাপন করেছে এবং এ পদক্ষেপ সারা বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব দিক বিবেচনা করে সিরিয়ার কর্মকর্তারা মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট ভেঙে দেয়ার জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহবান জানিয়েছে।#

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন