রবিবার, ১২ মে, ২০১৯

কুরআনের বিরুদ্ধে সব মিথ্যা অপবাদের জবাব দিলো কে?


◑ ২০০০ সালঃ একজন খৃষ্টান ডাক্তার পৃথিবীর বুকে ঘোষণা দিল, কুরআন মিথ্যা,ইসলাম মিথ্যা, সাথে তার প্রমাণ দিলো আর কুরআন থেকে ৩০টি ভুল বের করল। ◑ ২০০১ সালঃ কোনো মুসলিম এলো না তার জবাব দেয়ার জন্য। ◑ ২০০২ সালঃ সৌদি আরবের কোনো মুফতী,আলেম,শায়েখ এলো না তার জবাব দিতে। ◑ ২০০৩ সালঃ দুবাই,বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকেও কোনো পীর উলামা এলো না তার জবাব দিতে। ◑ ২০০৪ সালঃ অনলাইনেও এই নিয়ে কোনো মুসলিম জবাব দিলো না।



◑ ২০০৫ সালঃ মারা গেলেন আহমেদ দিদাত। ◑ ২০০৬ সালঃ যে একটা আশা ছিলো সেই তো মরে গেলো।(গুজব) ◑ ২০০৭ সালঃ এই নিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে সেই খ্রিষ্টান ডাক্তারের সব অপবাদ নিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে বই লেখা শুরু হলো। ইসলাম নিয়ে তামাশা বাড়তেই থাকল। ◑ ২০০৮ সালঃ স্পট: ভারত যে দেশে প্রত্যেক ঘণ্টায় ২৬ জন নারী ধর্ষিত হয়। যে দেশে মুসলিমদেরকোনো সম্মান নেই, বাবরি মসজিদ ধ্বংস ইত্যাদিসহ ইসলাম বিদ্বেষী ঘটনা।সে দেশ থেকে
আসলো এক চিকন শ্যামলা বর্ণের লোক। পেশায় একজন ডা: এই তার পরিচয়। লোকটি গেলো জনৈক
খ্রিষ্টানের কাছে। গিয়ে হলো ৪ ঘণ্টা ২৫ মিনিট ২০ সেকেন্ডের বিতর্ক। কুরআনের বিরুদ্ধে সব মিথ্যা অপবাদের জবাব তো দিলোই সাথে বাইবেল থেকে ১০০টারও বেশি ভুল ধরিয়ে দিলো। আর শুরু করলেন এক নবদিগন্তের অভিযাত্রা। লোকটি আর কেউ নয় জগদ্বীখ্যাত ড. জাকির নায়েক।

বৃহস্পতিবার, ৩ আগস্ট, ২০১৭

সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি সরকার -ড. তুহিন মালিক


মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ রায়। প্রধান বিচারপতি তাঁর পর্যবেক্ষণে “যত্রতত্র ক্ষমতার অপব্যবহারে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বদলে ক্ষমতাধর দৈত্যে রুপান্তর, নিরপেক্ষ ও হস্তক্ষেপমুক্ত নির্বাচনের অভাবে অবিকশিত গণতন্ত্র, ঝুঁকিপূর্ন মানবাধিকার, অনিয়ন্ত্রিত দুর্নীতি, অকার্যকর সংসদ, প্রশাসনে বিশৃঙ্খলা, ক্ষমতার অপব্যবহার, নির্বাহী বিভাগের অসহিষ্ণু ও বেপরোয়া, বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ”সহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের স্বরুপ তুলে ধরেছেন।
ক্ষমতাসীন হবার পর থেকে আওয়ামী লীগ অধিকাংশ ক্ষেত্রে আদালতের সেসব সিদ্ধান্ত ও পর্যবেক্ষণ তাদের পছন্দ হয়েছে, সেগুলোকে সানন্দে বরণ করতে দেখা গেছে। নিজেদের স্বার্থে কখনও তারা সংবিধানের দোহাই দিয়েছে। কখনও আবার আদালতের দোহাই দিয়ে কার্যসিদ্ধি করেছে। তত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করতে গিয়ে বিচারপতি খায়রুল হকের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় ও পর্যবেক্ষণকে তারা তাদের স্বপক্ষে বড় যুক্তি হিসাবে দেখিয়েছিল।
এবার ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর আওয়ামী লীগের সেই নেতারা নিশ্চিতভাবেই গলা ফাটিয়ে বলবেন যে, ‘আদালতের পর্যবেক্ষণের কোনো কার্যকারিতা নেই।’
কিন্তু সর্বোচ্চ আদালত হিসাবে সুপ্রিম কোর্টের ‘অবিটার ডিকটা’ মানার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। হাইকোর্টের অবিটার ঐচ্ছিক হলেও, যেহেতু হাইকোর্টের অবিটারকে আপিল বিভাগ সমুন্নত রেখেছে, সেহেতু আপিল বিভাগের অবিটার ডিকটা মানার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
কেননা, ২০১৩ সালের ১৮ জুলাই ভারতের প্রধান বিচারপতি আলতামাশ কবীরের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চ মত দেন, ‘বিচারপতি বি পি সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চ এর আগে (২০ মার্চ, ১৯৫৯) বলেছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের অবিটার ডিকটা বা পর্যবেক্ষণের উল্লেখযোগ্য গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা আজও তা সম্পূর্ণরূপে গ্রহণ করি। সংবিধানের ১৪১ অনুচ্ছেদের (আমাদের ১১১) আওতায় সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া অবিটার ডিকটা মানার আইনগত বাধ্যবাধকতা আছে।’
মঙ্গলবারের প্রকাশিত পূর্নাঙ্গ রায়ে আপিল বিভাগের পুরো সাতজন বিচারপতিই একমত পোষণ করেছেন।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ একযোগে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন যে ‘১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনী ছিল সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী’।
প্রধান বিচারপতি বলেছেন, ‘সংসদের উচিত নয় সুপ্রিমকোর্টের কোনো পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য বা কটাক্ষ করা।’
তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়ক ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিষয়ে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠের রায়ে আপিল বিভাগ মত দিয়েছিলেন যে, দুটি সংসদীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে। তবে শর্ত হল, বিলুপ্ত হওয়া ৫৮(ক) অনুচ্ছেদের ৩ ও ৪ দফা অনুযায়ী সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কিংবা আপিল বিভাগের সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে প্রধান উপদেষ্টা পদে নিয়োগ করা যাবে না। প্রধান বিচারপতির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনীতিকীকরণ হতে পারে, এদিকটি মাথায় রেখে আদালত উল্লিখিত নির্দেশনা দিয়েছিলেন।’
প্রধান বিচারপতি তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেছেন- ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বদলে ক্ষমতাধর দৈত্যে রুপান্তর, রাজনীতির বাণিজ্যিকরণ, ক্ষমতার জোড়ে জনপ্রতিষ্ঠানসমূহ নিয়ন্ত্রণকরণ, ক্ষমতার অপব্যবহারে উৎসাহিত এবং যত্রতত্র ক্ষমতার অপব্যবহারের ধৃষ্টতা প্রদর্শন, অপ্রাতিষ্ঠানিক নির্বাচন কমিশন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে এবং কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়া স্বাধীনভাবে না হতে পারলে গণতন্ত্র বিকশিত হতে পারে না, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া গ্রহণযোগ্য সংসদ প্রতিষ্ঠা হয় না, মানবাধিকার ঝুঁকিতে, দুর্নীতি অনিয়ন্ত্রিত, সংসদ অকার্যকর, প্রশাসনে বিশৃঙ্খলা, খারাপ লোকেরা আরও লুটপাটে বেপরোয়া, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দাম্ভিকতা দেখানোর ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার মতো কোনো প্রতিষ্ঠান নেই, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ভীষণ রকম ক্ষতিগ্রস্ত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিতে অক্ষম, নির্বাহী বিভাগ আরও অসহিষ্ণু ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, আমলাতন্ত্র দক্ষতা অর্জনে চেষ্টাহীন, নির্বাহী বিভাগ দাম্ভিক নিয়ন্ত্রণহীন, নির্বাহী বিভাগ বিচার বিভাগের ক্ষমতা সংকুচিত করতে ধ্বংসাত্মকভাবে আগ্রহী, ৭০ অনুচ্ছেদের জন্য দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে সংসদ সদস্যদের প্রশ্ন তোলার স্বাধীনতা নেই, বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপসহ’ সরকারের স্খলিত রুপ।

নিম্ন আদালতের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রপতির হাতে-এ সংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদকে অবৈধ বলেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ আপিল বিভাগের আরো দুজন বিচারপতি এই অভিমত দিয়েছেন। ১১৬ অনুচ্ছেদ নিয়ে প্রধান বিচারপতি তার অভিমতে বলেন, “সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদে সংশোধন আনা হয়। এতে ‘সুপ্রিম কোর্টের’ স্থলে ‘প্রেসিডেন্ট’ শব্দ সন্নিবেশিত হয়। এর মাধ্যমে জুডিশিয়াল সার্ভিসে কর্মরতদের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতির নিয়ন্ত্রণ প্রেসিডেন্টের কাছে ন্যস্ত করা হয়। এই ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে যদিও সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শের বিধান রাখা হয়েছে, তথাপি তা অর্থহীন যদি নির্বাহী বিভাগ এক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টকে সহযোগিতা না করে। আবার ১১৬ অনুচ্ছেদ সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। যেখানে বলা হয়েছে, অধস্তন সকল আদালত ও ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা হাইকোর্ট বিভাগের হাতে থাকবে।” প্রধান বিচারপতি অভিমতে বলেন, ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অধস্তন আদালতকেও স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হতে হবে। বিচার বিভাগ এখন এমন এক বেদনাদায়ক পরিস্থিতির মুখোমুখি যে মাসদার হোসেন মামলার রায়ে নির্দেশনা সত্ত্বেও সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদ কার্যকরে কিছুই করা হচ্ছে না।’
সরকারী দল হয়তো পরিকল্পনা নিয়েছে যে তারা সংসদের আগামী অধিবেশনে এই রায় ও পর্যবেক্ষণকে সংসদের ভিতরে তুলোধুনো করবে। কিন্তু সেটা করা হলে সরকারের অবৈধতার সংকট আরো বেশীমাত্রায় দীপ্তিমান হয়ে উঠবে।
ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ রায় ও প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ সরকারের বৈধতা ও আচরনের বিষয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের অবতারনা করেছে, যা গায়ের জোড়ে দমন করার শক্তি সরকারের নেই।

বুধবার, ২ আগস্ট, ২০১৭

হজ্বযাত্রা ভুন্ডুল করতে বিজেপীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে বামপন্থী মেনন!


দু-একদিনের মধ্যে ভিসা প্রিন্টিং, অতিরিক্ত মোয়াল্লেম ফিসহ অন্যান্য জটিলতার সমাধান না হলে হজ ফ্লাইটে জটিলতা আরও বাড়বে। যাত্রী সংকটে এ পর্যন্ত বিমানের ১২টি ও সৌদি এয়ারলাইন্সের তিনটি হজ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে বিমানের সক্ষমতা হারিয়েছে ৫ হাজার ৩৮০ জন, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের লস হয়েছে এক হাজার ২০০ জন।
বুধবার সচিবালয়ে হজযাত্রী পরিবহন নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ৪০ হাজার হজ্বযাত্রীর যাত্রা এখন অনিশ্চিত !
তিনি বলেন, বিমান পরিকল্পনার সময় এই লস হতে পারে ধারণা করে অতিরিক্ত ফ্লাইটের ব্যবস্থা করে রেখেছে। কিন্তু আজ কালকের মধ্যে যদি সমস্যার সমাধান না হয়, তখন এটা একটা সমস্যা হিসেবে দাঁড়াবে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, মেনন এসব বুঝেও কেন প্রতিকারে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। হজ্বের মতো গুরুত্বপুর্ন একটি ফরজ ইবাদাত নিয়ে মেণনের এ কেমন মশকরা ?
কিছু দিন আগে ভারতীয় উগ্রবাদী দল বিজেপি ঘোষণা দিয়েছে রামমন্দির না করতে দিলে ভারতীয় মুসলমানরা হজ্বও করতে পারবেণ না । তারা বাঁধা দিবেণ । অনেকের ধারণা, বিজেপির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই কি বামপন্থি মেনন হজ্বে নানা জটিলতা সৃষ্টি করছেন?
অপরদিকে বাংলাদেশ বিমান জঠিলতা কমিয়ে ফেললে ধীরে ধীরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স দক্ষিণ এশিয়ায় নামকরা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে। এতে পাশের দেশ ভারতের বিমান সংস্থাগুলির জন্য নতুন একটি প্রতিদ্বন্দ্বী বৃদ্ধি হয়। ফলে ভারতপন্থি মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এটা চান না । ইতিমধ্যে তাঁর মন্ত্রালয় লক্ষকোটি টাকারও বেশী লোকসান হয়েছে। একই সাথে এভাবে বিমানকে হজের সময় অচল রাখার পেছনে বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে থাকা হিন্দুত্ববাদীদের প্রভাব উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকেই ।

সোমবার, ৩১ জুলাই, ২০১৭

"সন্ত্রাসীদের মোকাবেলার নামে আমেরিকার জোট গঠন ছিল রাজনৈতিক প্রতারণা"

ভয়েস অফ বাংলাদেশ : সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতিসংঘ মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদের প্রধানের কাছে লেখা চিঠিতে মার্কিন নেতৃত্বে গঠিত বেআইনি সামরিক জোট ভেঙে দেয়ার দাবি জানিয়েছে। আমেরিকা সিরিয়া সরকারের অনুমতি না নিয়ে এবং জাতিসংঘের নীতিমালার বাইরে থেকে দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা চালাচ্ছে।
চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন কথিত আন্তর্জাতিক জোট উগ্র সন্ত্রাসী দায়েশের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে রাকা, হাসাকা, আলেপ্পো ও দেইর আজ-যোর প্রদেশের বেসামরিক লোকজনের ওপর হত্যাযজ্ঞ ‌এবং আবাসিক এলাকাকে টার্গেট করে হামলা চালাচ্ছে। তাই সিরিয়ার জনগণ চায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট ভেঙ্গে দেয়া হোক।
এই জোট দায়েশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানের নামে ২০১৪ সালের জুলাই থেকে দামেস্ক ও জাতিসংঘের অনুমতি ছাড়াই সিরিয়ায় বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তুরস্কের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ সালিম ইয়াশার সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের ভূমিকার ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, "সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে আমেরিকা প্রথম থেকেই সিরিয়া সরকারের অনুমতি না নিয়ে ওই দেশটিতে হামলা চালিয়ে আসছে। কারণ এই জোটের প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে দায়েশসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সহযোগিতা করা।" তুরস্কের এই রাজনৈতিক ভাষ্যকার আরো বলেছেন, "মার্কিন নীতি অত্যন্ত প্রতারণাপূর্ণ এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তারা যে যুদ্ধের কথা বলছে তার ওপর আস্থা রাখা যায় না।"
প্রকৃতপক্ষে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট কখনই সন্ত্রাসীদের ওপর হামলা চালায়নি। তারা কেবলমাত্র মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের অবৈধ লক্ষ্য অর্জনের জন্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করছে। আমেরিকা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কথা বললেও বাস্তবে তারা সিরিয় সেনাদের অবস্থানের ওপর হামলা চালিয়ে সন্ত্রাসীদের সহযোগিতা করছে। এর বড় প্রমাণ হচ্ছে, সিরিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিকে দীর্ঘায়িত করে সন্ত্রাসীদেরকে দিয়ে সেদেশে ধ্বংসযজ্ঞ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে আমেরিকা।
অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, দায়েশ সন্ত্রাসীদের মোকাবেলার নামে আমেরিকার জোট গঠন বড় ধরণের রাজনৈতিক প্রতারণা। মার্কিন খ্যাতনামা রাজনৈতিক বিশ্লেষক পাওয়েল শোল্ডেন ফাত এ ব্যাপারে বলেছেন, দায়েশ বিরোধী মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট সন্ত্রাসবাদ দমনে মোটেই আন্তরিক নয়। কারণ তারাই এসব সন্ত্রাসীদের প্রধান সহযোগী।
যাইহোক, আমেরিকার এ ভণ্ডামি চরিত্রের কারণে আন্তর্জাতিক সমাজ খুবই চিন্তিত। ইরাক ও সিরিয়ায় নিরাপত্তাহীনতা, অবকাঠামো ধ্বংস, মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সন্ত্রাসবাদের ভয়াবহ বিস্তার এসবই এ অঞ্চলে মার্কিন হস্তক্ষেপ ও ষড়যন্ত্রেরই ফসল। জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়াই সিরিয়ায় মার্কিন আগ্রাসন বিশ্বে খারাপ নজির স্থাপন করেছে এবং এ পদক্ষেপ সারা বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব দিক বিবেচনা করে সিরিয়ার কর্মকর্তারা মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট ভেঙে দেয়ার জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহবান জানিয়েছে।#

মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট ভেঙে দিতে হবে : সিরিয়া

ভয়েস অফ বাংলাদেশ : সিরিয়ার জনগণের ওপর মার্কিন বাহিনীর অব্যাহত অপরাধ বন্ধের জন্য জাতিসংঘকে কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে দামেস্ক সরকার। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে লেখা দুটি চিঠিতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে।
চিঠিতে সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুস্পষ্ট করে বলেছে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন কথিত আন্তর্জাতিক জোট উগ্র সন্ত্রাসী দায়েশের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে রাকা, হাসাকা, আলেপ্পো ও দেইর আজ-যোর প্রদেশের বেসামরিক লোকজনের ওপর হত্যাযজ্ঞ ‌এবং আবাসিক এলাকাকে টার্গেট করে হামলা চালাচ্ছে। এসব অপরাধের প্রেক্ষাপটে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটকে ভেঙে দিতে হবে। মার্কিন বাহিনী সিরিয়ার কাছ থেকে কোনো অনুমতি না নিয়েই গত তিন বছর ধরে সিরিয়ায় হামলা চালিয়ে আসছে বলে চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলায় বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর দামেস্ক সরকার জাতিসংঘের কাছে এ চিঠি দিল। এতে আরো অভিযোগ করা হয়েছে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ ও জাবহাত ফতেহ আশ-শামকে সমর্থন দিয়ে চলেছে।#

রবিবার, ৩০ জুলাই, ২০১৭

তসলিমা নাসরিন ফের বিক্ষোভের মুখে পা রাখতে পারেননি আওরঙ্গাবাদে


আওরঙ্গাবাদ: ভারতে বসবাসকারী বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে স্থানীয় জনতার বিক্ষোভের মুখে মহারাষ্ট্রের আওরঙ্গাবাদ বিমানবন্দর থেকে শনিবার রাতে ফিরে যেতে হয়েছে।
আওরঙ্গাবাদের পুলিশ জানিয়েছে, লেখিকা তসলিমা নাসরিন শহরের একটি হোটেলে থাকার জন্য ঘরও বুক করেছিলেন- কিন্তু শনিবার সন্ধ্যায় মুম্বাই থেকে আওরঙ্গাবাদ বিমানবন্দরে নামার পরই তিনি প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়েন। খবর বিবিসির।
অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) নামে একটি রাজনৈতিক সংগঠনের শত শত কর্মী বিমানবন্দরের বাইরে জড়ো হয়ে ‘তসলিমা গো ব্যাক’ শ্লোগান দিতে থাকেন।
তদের বক্তব্য ছিল, ইসলাম-বিরোধী লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে কিছুতেই আওরঙ্গাবাদ শহরে পা রাখতে দেওয়া হবে না।
এই পরিস্থিতিতে পুলিশ তসলিমা নাসরিনকে বিমানবন্দরে বাইরে বেরোনোর অনুমতি দেয়নি।
শেষ পর্যন্ত এয়ারপোর্টেই বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর তিনি পুলিশের পরামর্শ মেনেই ফিরতি বিমানে মুম্বাই ফিরে যান বলে জানা গেছে।
এর আগে হায়দ্রাবাদ ও কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন শহরেই তসলিমা নাসরিনকে বিভিন্ন মুসলিম সংগঠনের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে। এমন কী শারীরিকভাবেও তাকে লাঞ্ছনা করার চেষ্টা হয়েছে।
সুইডেনের পাসপোর্টধারী তসলিমা নাসরিন ভারতের ভিসা নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে প্রধানত দিল্লিতেই বসবাস করেন।
কলকাতায় তার প্রবেশের ওপর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা আছে, তবে নিরাপত্তাগত ঝুঁকির কারণে ভারতের অন্যত্রও যে তিনি অবাধে ঘোরাফেরা করতে পারেন তা নয়।
তবে আওরঙ্গাবাদের ঘটনা নিয়ে তসলিমা নাসরিন সংবাদমাধ্যমের সামনে এখনো মুখ খোলেননি।
তাকে আপাতত একটি অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
লেখিকা এই মুহূর্তে কোথায় আছেন, পুলিশ কর্তৃপক্ষও সে ব্যাপারে মুখ খুলতে রাজি হয়নি।

সোমবার, ২৯ মে, ২০১৭

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে সাত নম্বর বিপদ সংকেত



বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি ধীরে-ধীরে আরো শক্তিশালী হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে সমুদ্র বন্দরের জন্য সাত নম্বর বিপদ সংকেত জারি করেছে।

উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী এবং চাঁদপুর অঞ্চলের দ্বীপ এবং চর সমূহ সাত নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়টির নাম দেয়া হয়েছে ‘ঘূর্ণিঝড় মোরা’ ।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ থাকবে ৬২ কিলোমিটার। দমকা ও ঝড়ো হাওয়ার আকারে এটি ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৫২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছে।

মঙ্গলবার সকাল নাগাদ এ ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া-বিদ শাহীনুর ইসলাম বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, ” এটি এখনো অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় নয়। এটি এখনো মাঝারি ধরণের ঘূর্ণিঝড়। যেহেতু এটি সমুদ্রে অবস্থান করছে, সেজন্য সন্ধ্যা নাগাদ এর শক্তি বেড়ে যেতে পারে।”

মি: ইসলাম জানালেন, জলবায়ুগতভাবে বাংলাদেশে এপ্রিল-মে মাস ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম।
সুত্রঃ বিবিসি